
সিএসবি২৪ ডেস্ক:
কক্সবাজার টেকনাফের মেরিন ড্রাইভে এপিবিএনের চেকপোস্টে মেজর (অব:) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার তদন্তে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসছে।
পরিদর্শক লিয়াকত আলী যে নাইন-এমএম পিস্তল দিয়ে সিনহাকে গুলি করেছিলেন সেটি ছিল এসআই নন্দদুলালের। এই অস্ত্রের গুলিতেই প্রাণ গেছে অবসরপ্রাপ্ত ওই মেজরের। কিন্তু কেন গুলি করতে লিয়াকত আলী এসআই নন্দদুলালের অস্ত্র ব্যবহার করলেন, এ প্রশ্নটিই এখন সামনে চলে এসেছে। র্যাব হেফাজতে নেওয়া পিস্তলটির ফরেনসিক করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, মেজর (অব:) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যার ঘটনাটি তাৎক্ষণিক ঘটেছে, নাকি পূর্বপরিকল্পিত গতকাল পর্যন্ত তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন র্যাবের তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
র্যাবের পক্ষ থেকে আগেই বলা হয়েছে- ঘটনাটি ঘটেছে মাত্র এক থেকে দুই মিনিটের মধ্যে। কিন্তু সুনির্দিষ্ট কী কারণে মেজর সিনহাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনো অজানা। বিষয়টি জানতে তদন্তকারীরা সব দিকই খতিয়ে দেখছেন। ইতোমধ্যে ঘটনার একটি তথ্যচিত্র পেয়েছে র্যাব।
ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে ধারণা পেতে বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও এসআই নন্দদুলালকে ঘটনাস্থলেও নেওয়া হয়। তাদের মুখ থেকেই বিস্তারিত জানেন তদন্তকারীরা। বর্তমানে তারাসহ এপিবিএনের তিন সদস্য র্যাবের রিমান্ডে রয়েছেন। ঘটনার বিষয়ে তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সূত্র আরও জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর পরিচয় পাওয়ার
পরও কেন সিনহাকে গুলি করলেন লিয়াকত আলী, এ ব্যাপারে দফায় দফায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থেই এ ব্যাপারে র্যাব কর্মকর্তারা কিছু বলতে নারাজ। তবে ঘটনার সময় সিনহার আচরণ যে স্বাভাবিক ছিল, ইতোমধ্যে র্যাবকে জানিয়েছেন তার সহকারী সাহেদুল ইসলাম সিফাত।
অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান গত ৩১ জুলাই পুলিশের গুলিতে নিহত হন। ওই ঘটনায় ৫ আগস্ট তার বড়বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন।
এতে আসামি করা হয় বরখাস্ত হওয়া পুলিশ কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশ, লিয়াকত আলী, নন্দলাল রক্ষিত, সাফানুর করিম, লিটন মিয়া, কনস্টেবল কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুনসহ ৯ জনকে। এটি পরে টেকনাফ থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু হয়। সূত্র-আমাদের সময়
পাঠকের মতামত